বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৩০ জুন ২০১৬

গবেষণার নতুন কৌশল

পটভূমিঃ প্রায় ১২.০ লক্ষ টনের গুড় ও চিনির ঘাটতি পূরণ করতে সুগারক্রপের উর্ধ্বমুখী এবং আনুভূমিক প্রসারণ উভয়ই প্রয়োজন। কিন্তু স্বল্পসময়ে চাষযোগ্য উচ্চমূল্য ফসলাদির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে সুগারক্রপের চাষের জমি প্রসারণ বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপরেও নতুন জেগে ওঠা চর, পাহাড়ী এলাকা এবং দক্ষিণাঞ্চলের কিছু কিছু লবণাক্ত এলাকায় সুগারক্রপ বিশেষকরে সুগারবিট সফলভাবে চাষ করা সম্ভব। আধুনিক জাত ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফলন বৃদ্ধির মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির একটা বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে । উপরন্তু ইক্ষুর এবং তারসাথে সুপারিশকৃত স্বল্পমেয়াদি সাথীফসল চাষ করে ফলন বৃদ্ধিও সম্ভব । পর্যাপ্ত পরিচর্যা ও রোপা পদ্ধতিতে চাষ করে কৃষকের প্রদর্শনীর জমিতে আখের গড় ফলন হেক্টর প্রতি ১০০ টনেরও অধিক পাওয়া গেছে। ইক্ষু সাধারণত মুড়ি করা হয় আশাব্যঞ্জক ফলনের সাথে সাথে চিনি আহরণ পরিমাণ বেশি থাকে। তাই একাধিক বছরে পদ্ধতিগত মুড়ি আখ চাষ এবং সাথীফসল চাষের মাধ্যমে আখের অধিক ফলন সহ একই জমিতে বাড়তি আয় করা যায়। সুগারক্রপ সমূহ সাধারণত খরা ও বন্যা সহিষ্ণু ফসল যা লবণাক্ত এবং স্বল্প উর্বর জমিতেও চাষ করা যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আমাদের দেশের তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের ব্যাপক পরিবর্তন হচ্ছে। সুগারক্রপে এ ধরনের প্রতিকূলতা মোকবেলার সহজাত ক্ষমতা থাকায় সহজেই এর চাষাবাদের মাধ্যমে এ পরিবর্তনের খারাপ প্রভাব কমানো যায়। অধিকন্তু আখ ফসল শারীরতাত্ত্বিকভাবে C-4 চক্রের ফসল ফলে গ্রীন হাউজ প্রতিক্রিয়ার জন্য বায়ুমন্ডলে সৃষ্ট অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে বায়োমাস তৈরীর ক্ষমতা বেশি। তাছাড়া আখ দীর্ঘ মেয়াদী ফসল হওয়ায় ইতোমধ্যে প্রবর্তিত ট্রপিক্যাল সুগারবিট চাষাবাদের প্রতি গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। তাছাড়া খেজুর, তাল ও গোলপাতার ন্যায় অপ্রচলিত সুগারক্রপ চাষাবাদের মাধ্যমে গুড় উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উদ্দেশ্য প্রসূত গবেষণা যেমন জৈব প্রযুক্তি ব্যবহার করে উচ্চ ফলনশীল, উচ্চ চিনিযুক্ত জাত উদ্ভাবনকে সর্বেচ্চ গুরুত্ব দেয়া উচিত। এ জন্যে গবেষণাগার ও জনশক্তি উন্নয়ন বিশেষ প্রয়োজন। বর্তমানে অধিক চিনি উৎপাদনকারী দেশগুলো আখের রস হতে বায়ো-ফুয়েল তথা জৈব জ্বালানী উৎপাদনে জোর দিচ্ছে ফলে বিশ্ববাজারে চিনির যোগান ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। ফলে বিশ্ববাজার হতে আমদানিযোগ্য চিনির পরিমাণ অচিরেই হ্রাস পাবে। ভবিষ্যৎ জনসাধারণের চিনি ও গুড়ের চাহিদার প্রতি দৃষ্টি রেখে আমাদের সরকারের উচিত দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করা এবং সে অনুযায়ি অগ্রবর্তী হওয়া। আখচাষে উদ্বুদ্ধ করণের জন্য বৃহৎ পরিসরে ভর্তুকি প্রদানও অব্যাহত রাখা উচিত। বিএসআরই এর মাধ্যমে চিনিকল গুলোর চিনি আহরণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা উচিত। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশজ সম্পদ ব্যবহার করে চিনি উৎপাদন ভিন্ন অন্য কোন উপায় নেই। একই সাথে গুড় উৎপাদন এলাকাতে উন্নত গুড় উৎপাদনকারী ইক্ষু জাত ও আধুনিক লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহার বিকশিত করতে হবে। আমাদের চাহিদা পূরণে উচ্চ ক্ষমতাযুক্ত ক্রাশার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যা হোক পরিবর্তত আবহাওয়া ও জলবায়ুকে বিবেচনায় নিয়ে দেশের চিনি ও গুড় উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নিম্নোক্ত বিষয় গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট গবেষণার নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। অগ্রাধিকারভিত্তিক ভবিষ্যৎ গবেষণা কৌশল: কৃষিতাত্ত্বিকঃ • সুগারবিট, তাল, খেজুরসহ অন্যান্য অপ্রচলিত মিষ্টি জাতীয় ফসলের উপর গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণ। • গবেষণার জমি এবং কৃষকের জমিতে ফলন পার্থক্য হ্রাসকরণ। • চাষীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ফলিত গবেষণা, সরেজমিন গবেষণা, খামার বিন্যাস গবেষণা এবং প্রযুক্তি সম্প্রসারণ গবেষণায় অধিকতর গুরুত্ব আরোপ করা। • গুড় উৎপাদনশীল এলাকায় ইক্ষু উৎপাদন বৃদ্ধিকরণ। • অধিক ফলন ও অধিক চিনি আহরণের